প্রকাশের সময় :
গাজীপুর মহানগর যুব জামায়াতের উদ্যোগে শনিবার (২৭ জুন) টঙ্গীতে এক বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র্যালি শুরুর আগে টঙ্গীর এশিয়া পাম্প এলাকায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মহানগর যুব বিভাগের সভাপতি জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াত মনোনীত সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান।
আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজহার ইসলাম মোল্লা, অর্থ সম্পাদক মাওলানা সাখাওত হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক নেয়ামত উল্লাহ শাকের, সদর থানা যুব সভাপতি এমএম জাহিদ, কোনাবাড়ী থানা সভাপতি মাঈনুল ইসলাম প্রসুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব থানা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, টঙ্গী পশ্চিম থানা সভাপতি মাহমুদুল হাসান, জামায়াত মনোনীত সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, পেশাজীবী, যুবক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, “পরিকল্পিতভাবে যুবসমাজের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে তাদের ধ্বংস করার অপচেষ্টা চলছে। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করার। জনগণ একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ চায়। আসুন, সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি এবং একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হই।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “গাজীপুরে মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। মাদকের কারণে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই, রাহাজানি ও নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে মাদকের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বক্তব্য শেষে টঙ্গীর এশিয়া পাম্প এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে চেরাগ আলী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
যুব বিভাগের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও নৈতিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।”