রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গাজীপুরে রোটারির মানবিক কর্মসূচি: অসচ্ছল কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা

গাজীপুরে রোটারির মানবিক কর্মসূচি: অসচ্ছল কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা
বার্তাবিডি ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

কৃষকের ঘামে ফলানো সোনালি ফসল ঘরে তুলতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিল রোটারি ক্লাব অব ভাওয়াল। গাজীপুরের ভুরুলিয়া গ্রামে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে ক্লাব সদস্যরা মাঠে নেমে কৃষকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করেন।

গ্রীষ্মের তীব্র খরতাপ উপেক্ষা করেই গ্রামবাংলার মাঠে চলছে ধান কাটার ব্যস্ততা। বৈশাখ এলেই সোনালি বোরো ধানে ভরে ওঠে কৃষকের মাঠ। এই ব্যস্ত সময়ে গাজীপুরের সদর উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রামে ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে রোটারি ক্লাব অব ভাওয়াল।

এই কর্মসূচিতে ক্লাবের সদস্যরা সরাসরি মাঠে নেমে অসচ্ছল কৃষকদের ধান কাটায় অংশ নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আমিরুল ইসলাম, রোটারি ক্লাব অব গাজীপুর সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর কবির, রোটারি ক্লাব অব গাজীপুরের প্রেসিডেন্ট বাবুল হোসেন, এসিস্টেন্ট কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য সদস্যরা। প্রোগ্রাম চেয়ার ছিলেন চার্টার প্রেসিডেন্ট ইমতিয়াজ সাজু এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেক্রেটারি মাহমুদুর রহমান পলাশ।

রোটারি ক্লাব অব ভাওয়ালের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, “রোটারি সবসময় মানবসেবায় বিশ্বাসী। কৃষকরা আমাদের দেশের প্রাণ। তাদের পরিশ্রমেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আজকের এই উদ্যোগ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে রোটারি সদস্যরা কৃষকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করছেন। কেউ ধান কাটছেন, কেউ গুছিয়ে রাখছেন, আবার কেউ কৃষকদের সহযোগিতা করছেন- সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

এই কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কৃষকদের সঙ্গে একসাথে খাবার ভাগাভাগি করে নেওয়া। বনভূমির ছায়াঘেরা পরিবেশে মাটির ওপর পাটি পেতে সবাই একসঙ্গে খাবার খাওয়ার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী, যা শহর ও গ্রামের মানুষের মধ্যে বন্ধনের এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, শ্রমিক সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ধান ঘরে তুলতে তারা প্রায়ই সমস্যায় পড়েন। এমন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি। এক কৃষক বলেন, “আমরা শুধু সাহায্য পাইনি, সম্মানও পেয়েছি।”

রোটারি ক্লাবের সদস্যদের মতে, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তি- তাই তাদের সম্মান ও সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব।

গাজীপুরের এই উদ্যোগ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং একটি ইতিবাচক বার্তা- সমবেদনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে সমাজের যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। বৈশাখের এই মানবিক উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।