মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ২৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে ইতিহাসের দলিল নিয়ে পিআইবির প্রদর্শনী

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে ইতিহাসের দলিল নিয়ে পিআইবির প্রদর্শনী
বার্তাবিডি ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে পিআইবির আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী

সংবাদপত্রের কালো দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর তথ্য ভবনে আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফারুক ওয়াসিফ।

উদ্বোধন শেষে তথ্যমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত বিভিন্ন আলোকচিত্র ও দলিল সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় তিনি বলেন, “বাকশাল প্রবর্তনের বছরের ১৬ জুন চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলোর অনুমোদন বাতিল করা হয়। একযোগে দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া ছিল শেখ মুজিবুর রহমান-এর জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। পিআইবি সেসময়ের সংবাদপত্রে বিষয়গুলো কীভাবে উঠে এসেছে, তা প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছে। নতুন প্রজন্ম এখান থেকে ইতিহাসের নানা দিক জানার সুযোগ পাবে।”

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজনের জন্য পিআইবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের ইতিহাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “সমাজ ও রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদীকরণ একদিনে ঘটে না, বরং ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের সংবাদপত্র ঘোষণা (সংশোধন) অধ্যাদেশ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকশিত করতে হলে বহুমত ও বহুধারার সংবাদমাধ্যমের বিকাশের পথও সুগম রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পিআইবি সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের গণমাধ্যমের ইতিহাস জানার সুযোগ করে দিচ্ছে। বর্তমান আলোকচিত্র প্রদর্শনী সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে ‘যেদিন বাংলাদেশ দৃষ্টি খোয়ালো, কণ্ঠ হারালো’ শীর্ষক একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে পিআইবি। পুস্তিকাটির রচয়িতা ফারুক ওয়াসিফ। এতে সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রেক্ষাপট, বাকশাল আমলে গণমাধ্যমের অবস্থা, পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ, পিআইবি প্রতিষ্ঠা, প্রেসক্লাব ও প্রেস কাউন্সিল গঠনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ভবনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।