, || - ||

শিল্পবর্জ্যে দূষিত লবলং খাল, বিপাকে শ্রীপুরের কৃষক

শিল্পবর্জ্যে দূষিত লবলং খাল, বিপাকে শ্রীপুরের কৃষক
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় :

দূষিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি

একসময় যে খালের পানি কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত, সেই লবলং খাল এখন স্থানীয় কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্যে খালের পানি দূষিত হওয়ায় আশপাশের কৃষিজমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে তাঁদের।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খিরু নদ থেকে উৎপত্তি হওয়া লবলং খাল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তুরাগ নদে মিশেছে। শ্রীপুরের নয়াপাড়া ও ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের কৃষি ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থায় একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত জলপ্রবাহটি। তবে দীর্ঘদিনের দূষণ ও দখলের কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালের দূষিত পানি জমিতে প্রবেশ করায় ফসল উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। আগে এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটাতেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমানে কিছু জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে। ফলে নিজেদের উৎপাদিত ধানের পরিবর্তে বাজার থেকে চাল কিনে সংসার চালাতে হচ্ছে অনেক কৃষককে।

চলতি বছর আমন ও আউশ ধানের আবাদে সমস্যার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। তাঁদের দাবি, দূষণের কারণে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও দূষণের মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরিপ ও পরীক্ষার প্রয়োজন।

কৃষকের কণ্ঠে হতাশা

শ্রীপুরের বেলতলী গ্রামের এক কৃষক বলেন, “এই খালের পানি জমিতে আসার আগে আমাদের জমিগুলো অনেক উর্বর ছিল। ভালো ফসল হতো, সেই ফসল দিয়ে সংসার চলত। কিন্তু এখন খালের পানি জমিতে ঢোকার পর চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। পানিতে রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে বলে আমাদের আশঙ্কা। এই জমিতে ফসল ফলানোর চেষ্টা করলেও ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।”

নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। জমিতে ফসল ফলানোই আমাদের জীবিকা। সেই জমিতে যদি চাষাবাদ করতে না পারি, তাহলে সংসার চালাব কীভাবে? আগে নিজের জমির ধান দিয়ে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা হতো। এখন ধান ফলাতে না পেরে বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হচ্ছে। আমরা চাই, খালটি খনন করা হোক, দূষণ বন্ধ করা হোক। যেন আবারও জমিতে ধান ফলাতে পারি, পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারি।”

খাল খননের পাশাপাশি দূষণ বন্ধের দাবি

কৃষকদের মতে, শুধু খাল খনন করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অপরিশোধিত বর্জ্য খালে ফেলা বন্ধ করা না গেলে খননের পরও দূষণ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় লবলং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, দূষণের উৎস শনাক্ত করা, শিল্পকারখানার বর্জ্য শোধনাগারের কার্যকারিতা যাচাই এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে খালের দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আবারও চাষাবাদে ফিরতে পারবেন এবং নিজেদের উৎপাদিত ফসল দিয়ে পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোর সুযোগ পাবেন।