প্রকাশের সময় :
গাজীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চারটি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলো হলো পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সামারডেইল এলিমেন্টরি ইংলিশ স্কুল, গাজীপুর ইউনাইটেড কলেজ ভবন এবং টাঙ্গাইলের নাগরপুর। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরীক্ষা চলে। প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।
পাঠশালা স্পেশাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এ পরীক্ষার আয়োজন করে। গাজীপুর ছাড়াও ঢাকা, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও টাঙ্গাইলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন করে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন গাজীপুর সদর মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মেহেদী হাসান (এলিস), বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুল হক সিদ্দিকী, গাজীপুর কেজি স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সদর মেট্রো থানার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ এবং ব্রেনজিম ট্রেইনার মো. নুরুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা আগ্রহ ও মনোযোগের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে সন্তানদের অপেক্ষায় কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা জানান, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নপত্র ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের পরীক্ষা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পাশাপাশি পরীক্ষা-ভীতি কমায় এবং প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করে।
কেন্দ্র সচিব সানজিদা রশিদ জানান, চারটি কেন্দ্রে চারজন কেন্দ্র সচিব, ১২২ জন কক্ষ পরিদর্শক ও ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। সবার সহযোগিতায় পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শহীদ শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও পাঠশালা স্পেশাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। শিশুদের মেধা বিকাশ, প্রতিভা অন্বেষণ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে এবারও ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। পরীক্ষার ফলাফল ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পড়াশোনায় আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।