, || - ||

সবুজ ও শান্ত ক্যাম্পাস গড়তে গাকৃবিতে ইয়াস বাংলাদেশের সচেতনতামূলক কর্মসূচি

সবুজ ও শান্ত ক্যাম্পাস গড়তে গাকৃবিতে ইয়াস বাংলাদেশের সচেতনতামূলক কর্মসূচি
বার্তাবিডি ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) আন্তর্জাতিক কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস (IAAS) বাংলাদেশ-এর গাকৃবি শাখা।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস, ক্লিন ক্যাম্পাস’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয় শব্দ নয়, চাই শান্ত পরিবেশ’ – এই দুটি প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষার্থীদের এ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান, ইয়াস গাকৃবি শাখার সদস্য এবং বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাতে গ্লাভস পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে ডাকবাংলো এলাকায় গিয়ে অভিযান শেষ হয়।

অভিযান চলাকালে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধবিষয়ক বিভিন্ন বার্তাসংবলিত ফেস্টুন বহন করেন। পরে অযথা হর্ন বাজানোসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিং করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় দোকানি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে শান্ত, স্বাস্থ্যকর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তারা।

এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার স্থান নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলারও প্রাণকেন্দ্র। পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টি সময়ের দাবি। ইয়াস বাংলাদেশ-গাকৃবি শাখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা ও নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন ছোট ছোট ইতিবাচক উদ্যোগই একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইয়াস (IAAS) বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও কৃষি ও জীববিজ্ঞানভিত্তিক ১৭টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটি সফলভাবে শিক্ষার্থী উন্নয়ন ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।