, || - ||

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি
বার্তাবিডি ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে গাজীপুরের শিববাড়ী বিআরটি স্ট্যান্ডে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি আ স ম ফারুক। এতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি থাকবে না। জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। যারা জনগণের স্পষ্ট রায়কে অস্বীকার করে, তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “সেদিন দেশজুড়ে ছিল আনন্দের দিন। কারণ সেদিন স্বৈরাচারের নেত্রী পালিয়ে গিয়েছিল। হাসিনার চেয়ে আপনারা বেশি শক্তিশালী না। জুলাই বিপ্লব হয়েছিল বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আপনাদের ডুবানোর জন্য আপনাদের চারপাশে যারা আছে তারাই যথেষ্ট। “

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হেলমেট বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো কাদের চরিত্র? আওয়ামী লীগ এখন ছাত্রদল, যুবদল হয়েছে।”

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের বেতন কোনো রাজনৈতিক দল দেয় না, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। আপনারা জনগণের কর্মচারী, কোনো দলের নয়। তাই জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করুন।”

গাজীপুরে ১১ দলের গণসমাবেশে আগতদের একাংশ

সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নিরপরাধ ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার দায় সরকারকে নিতে হবে। তিনি সরকারের প্রতি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান এবং ছাত্রশিবির উসকানি দিয়েছে—এমন অভিযোগের প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি জানান।

অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কিংবা রাষ্ট্রীয় শক্তির কোনো বাহিনীই জনগণের প্রতিরোধের সামনে টিকে থাকতে পারেনি। পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতার আভাস জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, জনগণ সংবিধানের আংশিক সংশোধন নয়, বরং মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার চায়।

জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করলে বিদেশি কোনো শক্তিই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. আতিকুর রহমান মুজাহিদ এমপি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের ওপর এখনও নির্যাতন চলছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার কোনো অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।”

এ সময় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. সালাহ উদ্দীন আইউবী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুর রব, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, এনসিপি নেতা হোসাইন আল মামুনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

###