প্রকাশের সময় :
বর্ষা মৌসুম এলেই দেশের বড় শহরগুলোর বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট, বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ে নোংরা পানি। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা সেকেলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখন আধুনিক নগরায়নের চাপে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একটি বসবাসযোগ্য ও স্মার্ট শহর গড়তে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ড্রেনগুলো সরু এবং সেগুলোর পানি নিষ্কাশনের পথ সঠিক নয়। এছাড়া পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল ও গৃহস্থালির বর্জ্য ড্রেনে ফেলার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে রাস্তায় জমে তৈরি হয় অসহনীয় জলাবদ্ধতা।
আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার অন্যতম সমাধান হলো ‘স্মার্ট সেন্সর’ প্রযুক্তি। উন্নত বিশ্বের অনেক শহরে ড্রেনের ভেতরে সেন্সর ব্যবহার করা হয়, যা পানির স্তর এবং বর্জ্যের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক বার্তা দেয়। এতে ড্রেন জ্যাম হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বড় শহরগুলোতে ড্রেনগুলোকে গভীর এবং প্রশস্ত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বড় জলাশয় বা নদীর সাথে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংযুক্ত করা জরুরি।
পরিবেশবিদদের মতে, শুধু কংক্রিটের ড্রেন বানালেই হবে না, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রাকৃতিক সমাধানও খুঁজতে হবে। শহরের পুকুর ও খালগুলো খনন করে সেগুলোকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের আধার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া রাস্তার পাশে ‘পারমিবল পেভমেন্ট’ বা পানি শোষণকারী রাস্তা তৈরি করা যেতে পারে, যা সরাসরি বৃষ্টির পানি মাটির নিচে পাঠিয়ে দেয়।
একটি আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা সফল করতে নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। ডাস্টবিনের বদলে ড্রেনে ময়লা ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। শিল্প-কারখানা ও ড্রেনের পানি সরাসরি নদীতে ফেলার আগে ইটিপি (ETP) বা শোধনাগারের মাধ্যমে বিষমুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
অবকাঠামো উন্নয়নের এই যুগে আমরা যদি এখনই ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্ব না দেই, তবে জলাবদ্ধতা আমাদের অর্থনীতির ওপর বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসাধারণের দায়িত্বশীল আচরণই পারে আমাদের শহরগুলোকে জলাবদ্ধতামুক্ত ও সুন্দর করে তুলতে।