শনিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বর্জ্য থেকে সম্পদ: আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আগামীর বাংলাদেশ

বর্জ্য থেকে সম্পদ: আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আগামীর বাংলাদেশ
বার্তাবিডি ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশ দূষণ। আর এই দূষণের মূলে রয়েছে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। দ্রুত নগরায়ন এবং জনসংখ্যার চাপে নাভিশ্বাস ওঠা বাংলাদেশে এখন সময় এসেছে বর্জ্যকে শুধু ‘আবর্জনা’ হিসেবে না দেখে ‘সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার। বিশেষ করে শিল্পনগরী গাজীপুরসহ দেশের বড় শহরগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন একটি অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে বড় একটি অংশই হলো প্লাস্টিক ও পলিথিন, যা শত বছরেও মাটিতে মিশে যায় না। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আর নদীগুলো হয়ে পড়ছে মৃতপ্রায়। পচনশীল বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

আধুনিক বিশ্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো Reduce (কমানো), Reuse (পুনব্যবহার) এবং Recycle (পুনরাবর্তন)। অপ্রয়োজনীয় পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বা কাগজের ব্যবহার বাড়ানো, কোনো জিনিস ফেলে দেওয়ার আগে সেটি অন্য কোনো কাজে লাগানো যায় কি না তা ভাবা এবং প্লাস্টিক, কাঁচ বা লোহা জাতীয় বর্জ্য কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে নতুন পণ্য তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত হলো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো তাদের আবর্জনা পুড়িয়ে বা প্রক্রিয়াজাত করে জ্বালানি তৈরি করছে। বাংলাদেশেও ঢাকা ও গাজীপুরের মতো জনবহুল এলাকায় এই ধরনের মেগা প্রজেক্টের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি উন্নতমানের জৈব সার কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন আর কেবল সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি একটি লাভজনক ব্যবসা ক্ষেত্রও হতে পারে। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বা ই-বর্জ্য (ইলেকট্রনিক বর্জ্য) সংগ্রহ করে তা বিদেশে রপ্তানি করছেন বা নতুন পণ্য তৈরি করছেন। বার্তাবিডি’র এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সঠিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা পেলে এই খাতটি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে।

একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই। বাসা-বাড়িতে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা পাত্রে রাখা, যত্রতত্র চিপসের প্যাকেট বা পানির বোতল না ফেলা এবং পলিথিন বর্জন করে পাটের পণ্য ব্যবহার করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি পরিবেশগত বিষয় নয়, এটি একটি টেকসই উন্নয়নের মডেল। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমরা যদি আমাদের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে পারি, তবেই গড়ে উঠবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে আজই আমাদের সচেতন হতে হবে।

###

সিইত-২৪-০৪