সর্বশেষ :

সমতা ও সম্মানের বার্তা – প্রান্তিক কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি


বার্তাবিডি ডেস্ক
প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২১, ২০২৬ । ৪:১৬ অপরাহ্ণ
সমতা ও সম্মানের বার্তা – প্রান্তিক কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি

হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের কোন ব্যাক্তির মেয়ের বিয়েতে জেলা প্রশাসক যোগ দিয়েছিলেন এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ব‍্যতিক্রমি ও উদার এ কাজটি করে নগরবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া। যার মেয়ের (কনে) বিয়েতে দাওয়াত খেতে গেছেন তিনি পেশায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রতন বাসফোর। তার বাড়ি গাজীপুর মহানগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের নিয়ামত সড়ক, পশ্চিম বিলাশপুর এলাকায়।

জেলা প্রশাসক প্রমাণ করেছেন, পদ নয়, মানুষ বড়ো। সম্মান আর ভালোবাসা সবার জন্য সমান। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি অচ‍্যুত খ‍্যাত হরিজনদের মধ‍্যে বয়ে যায় খুশির বন্যা। কেউ কেউ খুশিতে প্রণাম করতে থাকেন জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের।

হরিজন সম্প্রদায় হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যাদের ঐতিহ্যগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে ‘মেথর’ বা ‘ডোম’ হিসেবে ডাকা হয়। সেই হরিজন সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া ।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মানবিকতার প্রশংসা করেছেন। জেলা প্রশাসন থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের বিয়েতে ডিসির উপস্থিতি সমাজের তথাকথিত উঁচু-নিচু ভেদাভেদ দূর করতে এবং সব পেশার মানুষকে সমান মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। জনপ্রতিনিধি বা উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করার ঘটনা এই দেশে খুবই বিরল।

অনুষ্ঠানে ডিসি ছিলেন মা হারা এতিম কনে কলেজ শিক্ষার্থী প্রীতি রানী বাসফোর পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। কনের পিতা শ্রী রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উনার স্ত্রী স্বর্গীয়া সীমা রানি বাসফোর গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা তাদের কন্যা প্রীতি রানি বাসফোরকে শিক্ষিত করেছেন এবং তিনি এখন একটি মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলছেন, যখন কোনো উঁচুতলার মানুষ বা জনপ্রতিনিধি সামাজিক মর্যাদায় পিছিয়ে থাকা মানুষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তখন তা সামাজিক সমতার বার্তা দেয়। এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক গাজীপুর বলেন,” আমাদের বাংলাদেশে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সকলকেই সমানভাবে আসীন করেছে। কাজেই আমরা সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে একত্রে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য, এ বার্তা সমাজের সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পেশাই অমর্যাদার না, অসম্মানের না, কম গুরুত্বপূর্ণ নয়; এ কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই ও সবাইকে করাতে চাই”। অনুষ্ঠানে   গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ছাড়াও জেলা প্রশাসনের

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহরিয়ার নজির ও সহকারী কমিশনার জনাব মো: মাশরাফিকুর রহমান আবরার উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের আগমনের খবর পেয়ে সাংবাদিকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিসিকে অবগত করেন। এই এলাকায় প্রায় ৩০০ এর অধিক হরিজন পরিবার বসবাস করেন। প্রসঙ্গত, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় হরিজন সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করেন।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০