সর্বশেষ :

মেহেরপুরে পেঁয়াজের ভরা মৌসুমেও দাম ধসে দিশেহারা কৃষকরা


বার্তাবিডি ডেস্ক
প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২১, ২০২৬ । ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
মেহেরপুরে পেঁয়াজের ভরা মৌসুমেও দাম ধসে দিশেহারা কৃষকরা
পেঁয়াজের ভরা মৌসুমেও দাম ধসে দিশেহারা কৃষকরা -ছবি সংগৃহিত

মেহেরপুর জেলায় এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। মাঠজুড়ে সবুজ পেঁয়াজের সমারোহ থাকলেও কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। ক্ষেতভর্তি ফসল প্রস্তুত থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেক চাষি পেঁয়াজ তুলতে পারছেন না। বাজারে দরপতন ও ক্রেতা সংকটের কারণে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন। ফলন ভালো হলেও বাজারদরের ধস কৃষকদের হতাশ করে তুলেছে।

মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ হলেও কৃষকদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। অনেকেই দাম বাড়ার আশায় পেঁয়াজ না তুলে জমিতেই রেখে দিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে খরচই উঠবে না। সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ সবই বেড়েছে। আমরা চরম বিপদে আছি।’

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরও একই পরিস্থিতি ছিল। এবারও যদি এমন থাকে, তাহলে পেঁয়াজ চাষ বন্ধ করে দিতে হবে। এই সময়ে আমদানি হলে আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’

কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা লোকসান হচ্ছে।’ একই গ্রামের নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পেঁয়াজ ওঠার মৌসুমে বিদেশি আমদানি বন্ধ রাখা উচিত। না হলে দেশীয় কৃষক টিকতে পারবে না।’

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১৯ টাকা। অথচ বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ১৮ টাকায়। ফলে প্রতি কেজিতেই লোকসান গুনছেন চাষিরা।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে, এতে তারাও চাপে রয়েছেন।

কৃষি বিপণন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ‘পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে আমদানি বন্ধ রাখতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জিব মৃধা বলেন, ‘কৃষকদের পেঁয়াজ তোলার পর ১০ থেকে ১৫ দিন জমিতে সেচ না দিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে কিছুদিন জমিতেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে এবং ভালো দামের জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব হবে।’

সব মিলিয়ে, উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা ও আমদানি নীতির প্রভাবেই মেহেরপুরের পেঁয়াজ চাষিরা এখন অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

###

জা/নি-২২-০৪

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০