The success story of a freelancer

বার্তা বিডি ডেস্ক : ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের সফলতার গল্প আজ নতুন নয়। ধীরে ধীরে সফলতার ভীত রচনা করতে হয়। সময়োপযোগী শিক্ষা, অভিজ্ঞতাই সফলতার পথটি রচনা করতে সহায়তা করে। আজকে জানবো মারজান আলম এর সফলতার গল্প ……..

আলহামদুলিল্লাহ! একাউন্ট ওপেন করতেই চমক পেয়ে গেলাম আমার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে। লকডাউনের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা শুরু করেছিলাম মাত্র পাঁচ ডলারের কাজ দিয়ে যদিও প্রায় বিড করার শেষ মুহুর্তে চলে এসেছিলাম নানান জবে এপ্লাই করতে করতে,কিন্তু ১৮টা কানেক্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও জব পাইনি।

আর এদিকে এইচ আরের জবটাও ছেড়ে দিয়েছিলাম।

এদিকে মাত্র দুই কানেক্ট বাকী ছিলো এর মধ্যে কাজ পেলে প্রোফাইল টিকবে তা না হলে ইউজলেস হয়ে যাবে আমার ভ্যারিফাইড একাউন্ট। আল্লাহর অশেষ রহমতে ১৯ নাম্বারের জব অফার পেয়েছিলাম এরপর কাজের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে রাইজিং ট্যালেন্ট আর আজকে টপ র‍্যাটেড।

খুবই হতাশ ছিলাম যখন মাইক্রোবায়োলজি পড়ে জব না হওয়া, এরপর কোনোরকমে ছোটো একটি স্কুলে ঢুকি সাথে সারাদিন টিউশন আবার সন্ধায় এইচ আরের একটা জব করা।

বাসায় যেতে যেতে নয়টা বাজতো, আম্মা প্রতিদিন বলতো স্কুলটা শুধু কর আর সব ছেড়ে দে এত ধকল করিস না।

কিন্তু এতগুলো কাজ করেও কাজ নিয়ে কখনোই স্যাটিসফাইড ছিলাম না। কারন শুধু মাত্র নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্যে এত চাপ নিয়ে রেখেছিলাম নিজের উপর।যদিও কখনোই আমার ফ্যামেলি বা বন্ধু-বান্ধব আমাকে ডি-মোটিভেটেড বা ইনসাল্ট করেনি কোনো কিছু নিয়ে এরপরেও জানিনা নিজের মন থেকে নিজেকে সব সময় অযোগ্য মনে হতো। বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে জব হয়নি বলে হয়তো।

এমন কি আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম না আমি কেমন ক্যারিয়ার চাই? কারো আন্ডারে জব করতে আমার ভালো লাগতনা, কাজের ক্ষেত্রে স্যারদের কাছে জবাবদিহিতা দিতে ভাল্লাগতো না। দুইটা কথা শুনালে সেটাই মাথায় গেঁথে যেতো। এরপর সেইসব কাজ থেকে মন উঠে যেতো অনেক সহজেই। আমি ভাবতাম এমন সেনসিটিভ মন নিয়ে ক্যারিয়ার গড়বো কোথায়?

নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারতাম না সেল্ফ রেস্পেক্ট কমে যাচ্ছিলো, কারন এতবছরের পড়া শেষে আমার কোন সেক্টরে যোগ্যতা আছে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধুমাত্র টিউশনিতে মনে হয় অনেক সাকসেসফুল ছিলাম কারণ কয়েকদিন পর পর গার্জিয়ানরা কল করে বলে ‘ম্যাডাম আপনি কি আর পড়ান না কাউকে? আমার আবার বাচ্চাকে একটু পড়ান’ কিন্তু অনার্স পাশ করা মেয়ে হয়ে আর ভালো লাগছিলোনা টিউশন করাতে।

যাইহোক, এমন অবস্থায় আমি কখনো ভাবিওনি যে আমি ফ্রিল্যান্সিং এ পারবো। ভাইদের কাজ দেখতাম আগামাথা কিছু বুঝতাম না, এরা ডিজাইন কিভাবে করে কোন টুল ইউজ করে! আইডিয়া ক্রিয়েট কেমনে। আমারো ইচ্ছা করে ওদের মত কাজ গুলো করতে। এরপর দুই ভাই ধরলো আমাকে যে আমি নাকি অনেক সহজেই পারবো এসব কারণ আমি পেইন্ট করি। পেইন্টিঙের আইডিয়া ক্রিয়েট করলে এগুলোও পারবো। ছোটো ভাই তো হাতে কলমে ইলাস্ট্রেটরে ডিজাইন শিখানো শুরু করলো৷ হ্যা ধীরে ধীরে বুঝলাম গ্রাফিক্স ডিজাইন কি, যদিও গ্রাফিক্স ডিজাইনের অনেক গুলো সেক্টর থাকে কিন্তু আমি চুজ করেছিলাম টি-শার্ট ডিজাইন।

এরপর কাজে লাগালাম আমার রাত জেগে থাকা রোগকে, ডিজিটাল আর্ট করার চেষ্টা। সবচেয়ে কষ্ট হতো নিত্য নতুন আইডিয়া ক্রিয়েট। কারণ গ্রাফিক্সের টুল গুলোর ব্যবহার শিখার পরেও নিত্য নতুন ডিজাইনের আইডিয়া ক্রিয়েট করা ছিলো কঠিন।

আমার পোর্টফলিওর ডিজাইন বানাতেই লেগেছিলো একমাস কারণ আমি প্রথম থেকেই সব কিছু ১০০% পার্ফেক্ট করতে চেয়েছি।

অবশেষে সকল দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফুলটাইম হাতে রেখে কাজে নেমে গিয়েছি এবং আমি আমার অন্য সকল জব ও টিউশন ছেড়ে দিয়েছিলাম এটাকেই ইনকামের সোর্স করবো বলে।

এখন যতটুকুই ইনকাম করিনা কেনো সম্পূর্ণ নিজের স্বাধীনতায় কাজ করি।

যদিও এখন আমার কয়েকদিনের জন্যে ঘুরতে গেলেও ল্যাপটপ টেনে নিয়ে যাওয়া লাগে, ঘুরার ফাঁকেও কাজ করতে হয় এরপরেও এটা নিয়ে আমার অভিযোগ নাই।

যদিও পথ চলা মাত্র শুরু, এতে উত্থান পতন থাকবে জানি কারণ ফ্রিল্যান্সিং যাত্রাটা খুব সহজ না। একটা ব্যবসার মত, হঠাৎ করেই ধ্বস নামে। এরপরেও আলহামদুলিল্লাহ। আমি সত্যি এটাকেই পেশা হিসেবে চাই। আর্ট নিয়ে কাজ করতে পারাটা আমার স্বপ্ন ছিলো সবসময়ই। তাই দোয়া করবেন।