সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন কাপাসিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা
জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে চিরস্মরণীয়
উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে হবে শিক্ষার্থীদের: শিক্ষামন্ত্রী
‘গণভোটের রায় সম্মান করুন, সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করুন’
ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সিরাজুল হক মোল্লা, সম্পাদক ড. মাহফুজ আলম
‘ক্লিক বেইট’ বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম নয়: ডিসি গাজীপুর
গাজীপুরে যুব জামায়াতের র্যালি ও বিক্ষোভ সমাবেশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে শিবিরের মাদকবিরোধী সাইকেল র্যালি
ঘুরে এলাম পাবনার মনমথপুর
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে কাপাসিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আনন্দ টিভির প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাপাসিয়া প্রেসক্লাব এবং কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বা পেশাগতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শামসুল হুদা লিটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সঞ্জীব কুমার দাস, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাকির হোসেন কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শফিকুল আলম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, এনটিভির কাপাসিয়া প্রতিনিধি এখলাছ উদ্দিন, সাংবাদিক তপন বিশ্বাস, উত্তম দাস, হাবিবুর রহমান হাবিব, মিজান খান শিমুল বিশ্বাস, এস এম হাবিবুর রহমান, নান্নাসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ফাতেহা মাহমুদা ইভা (৫৭) কাপাসিয়া থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, কাপাসিয়া ইউনিয়নের সাফাইশ্রী মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৯ জুলাই বাদীর দাবি করা জমিতে স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাহফুজুর রহমান রাসেল, মাসুদ পারভেজ চৌধুরী, মানিক চন্দ্র বর্মন, শংকর চন্দ্র বর্মনসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে মামলার অন্যতম আসামি ও আনন্দ টিভির কাপাসিয়া প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বাদীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কখনও কোনো বিরোধ বা কথা-কাটাকাটি হয়নি। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, ঘটনার পরপরই কাপাসিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, “মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
স্থানীয় সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি তারা স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
###
আপনার মতামত লিখুন :