শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি
কাশিমপুর কারাগারে কয়েদীর মৃত্যু
ময়মনসিংহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু, অংশ নিচ্ছেন ৫১৯ শিক্ষার্থী
মজুরি বোর্ডের প্রতি আস্থা রেখে সব শ্রমিককে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জামায়াতের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার আমিরের নাম ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ, সাক্ষাতের প্রত্যাশা সাদিক কায়েমের
শ্রমিক আন্দোলনে ইন্ধনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান সাদমার
দক্ষিণ এশিয়ায় ৯৮তম, গবেষণায় এশিয়ায় ৮৬তম গাকৃবি
ডিসেম্বরে চূড়ান্ত জানুয়ারিতে বর্ধিত বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা

দেশব্যাপী তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে গাজীপুরে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বন্ধ ঘোষিত কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক নেতাদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় গাজীপুর ক্লাব মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ভাঙচুর, সহিংসতা ও গুজবে কান না দিয়ে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার শ্রমিকদের দাবির প্রতি আন্তরিক। ইতিমধ্যে নতুন মজুরি বাস্তবায়নে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি সচল রাখতে শ্রমিক-মালিক সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউল আলম। তিনি বলেন, শ্রমিকরা ইতোমধ্যে কাজে ফিরেছেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি প্রবেশ করে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং কারখানা ভাঙচুরের মাধ্যমে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এসব হামলাকারীকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
শফিউল আলম বলেন, মজুরি বোর্ডের প্রতি আস্থা রেখে সব শ্রমিককে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ঘোষণা করতে হবে।
তিনি জাতীয় কারিগর ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলীসহ নির্দোষ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি, শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যালয় খুলে দেওয়া এবং নিরীহ শ্রমিক নেতাদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক তমিজউদদীন তনু, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের গাজীপুর জেলা সহ-সভাপতি মো. আজিজুল ইসলাম, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন সম্রাট, পোশাক শিল্প শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদের গাজীপুর জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মিয়া এবং বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা সভাপতি মো. আবুল হোসেন জুয়েল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক হাবিব, জাতীয় কারিগর ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নারী বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া পারভিন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক নাইমা সুলতানা লতা, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিটন সরকার, বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা সভাপতি হামিদ সরকার, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্সের গাজীপুর অঞ্চলের নেত্রী আসমা বেগম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা সভাপতি রহিম বাদশা এবং বাটা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ।
এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন এবং শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সভায় উপস্থিত নেতারা শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বন্ধ ঘোষিত পোশাক কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত পরামর্শ: প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনির বক্তব্যের মূল বক্তব্য বা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দিলে তাঁর বক্তব্যটি সংবাদে যথাযথভাবে যুক্ত করে দিতে পারব। অনুমান করে তাঁর নামে বক্তব্য দেওয়া সাংবাদিকতার নির্ভরযোগ্যতার জন্য ঠিক হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :