ঘুরে এলাম পাবনার মনমথপুর
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার
শেখার কোনো বয়স নেই: উপাচার্যের নেতৃত্বে আজীবন শিক্ষায় বাউবির নতুন অঙ্গীকার
গাজীপুরের অরণ্যঘেরা গ্রামে পৌঁছাল ফ্যামিলি কার্ড : উচ্ছ্বসিত নারী উপকারভোগীরা
হাসপাতাল পরিদর্শনে উঠে এলো আইসিইউ, ডায়ালাইসিস ও পরিচ্ছন্নতার সংকট
শ্রীপুরে যুব জামায়াতের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে ইতিহাসের দলিল নিয়ে পিআইবির প্রদর্শনী
২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি গাজীপুর: জেলা প্রশাসক
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিতের আশ্বাস, অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা জিএমপি কমিশনারের
ছোট উদ্যোগই একদিন বিশ্ব জয় করে— ডিসি গাজীপুর

পাবনার শিক্ষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন উপলক্ষে এক দিনব্যাপী সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর ৫:৩০ মিনিটে টঙ্গী থেকে শুরু হওয়া এ সফরে মিডিয়া বিভাগের ৭ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। দক্ষ চালকসহ মোট ৮ সদস্যের এ সফর রাত প্রায় ১২টায় গাজীপুর চৌরাস্তায় পৌঁছানোর মাধ্যমে শেষ হয়।
সফরের শুরুতে সদস্যরা সিরাজগঞ্জ নদীবন্দরে পৌঁছে সকালের নাস্তা গ্রহণ করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পৈতৃক বাড়ি ও কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া করা হয়।
এরপর সফরসঙ্গীরা সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহানের দারুল আমান ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত মসজিদ, মাদরাসা ও কলেজ পরিদর্শন করেন। পরে পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার সালাত আদায় করেন।
জুমার নামাজ শেষে পাবনা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে জুলাই বিপ্লব স্তম্ভ, পৌরসভা ভবন, আদালত প্রাঙ্গণ, শিল্পকলা একাডেমি এবং প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি উল্লেখযোগ্য।
পরবর্তীতে পাবনা মানসিক হাসপাতাল, রূপপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতু পরিদর্শন করা হয়। দুপুরের খাবার হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে সম্পন্ন করেন সফরসঙ্গীরা।
এরপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন রেলওয়ে আবাসিক এলাকা, জাদুঘর, খেলার মাঠ ও কবরস্থান পরিদর্শন করা হয়। জাদুঘরে সংরক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারক, বিশেষ করে ১৯৭১ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে নিক্ষিপ্ত বোমার অংশবিশেষ সদস্যদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
সফরের পরবর্তী গন্তব্য ছিল ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন। সেখানে বিভিন্ন ট্রেনের আগমন-প্রস্থান এবং রেলওয়ের কর্মচাঞ্চল্য পর্যবেক্ষণ করেন সদস্যরা।
দিনের শেষভাগে দলটি ঐতিহাসিক বাঘাবাড়ি শাহী মসজিদ পরিদর্শন করে। প্রায় পাঁচ শতাধিক বছরের পুরোনো মোগল আমলের এ মসজিদ, সংলগ্ন দরগাহ, বিশাল দিঘী, কামিল মাদরাসা ও শতবর্ষী বৃক্ষরাজি সফরসঙ্গীদের মুগ্ধ করে। সেখানে আসরের সালাত আদায় করা হয়।
ফেরার পথে সদস্যরা নিজেদের ছাত্রজীবন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়।
যাত্রাপথে ইসলামী সংগীত, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যভিত্তিক আলোচনা শোনা হয়। পাশাপাশি সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিবেশিত ইসলামী সংগীত সফরকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
মাগরিব ও এশার সালাত মিডিয়া বিভাগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম এনামুল ভাইয়ের ইমামতিতে আদায় করা হয়। পরে হালকা নাস্তা শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ সফর দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও গবেষণাধর্মী সফর অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত।
আপনার মতামত লিখুন :