সর্বশেষ :

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ছাত্রলীগ গড়ে তুলতে হবে – মাসুদ রানা এরশাদ


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ৪, ২০২১ । ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ছাত্রলীগ গড়ে তুলতে হবে – মাসুদ রানা এরশাদ

সিরাজুল ইসলাম তপু, গাজীপুর : দেশ বিভাগের পূর্বেই ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে এই ভূখন্ডের মানুষের কল্যাণের জন্য, অত্যারিত, নিপীড়িত মানুষের প্রয়োজনের তাগিদেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ছাত্রসংগঠনটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহুর্তে নিজেদের সক্রিয় ভূমিকার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬দফার আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র নির্বাচনে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেশের মানুষের কল্যাণেই নিবেদিত ছিল। তারপর ৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর আত্নত্যাগের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছিলাম একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ভূ-খন্ড বাংলাদেশ।

মাসুদ রানা এরশাদ আরো বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষার স্তর পেরিয়ে যখন উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হই তখন থেকেই মূলত: ছাত্ররাজনীতির শুরু, আমার বাবা আওয়ামীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং ভাইয়েরাও ছাত্ররাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। স্কুল জীবনেই দেখতাম ভাইয়েরা বিভিন্ন মিছিল, মিটিং করার কারণে বাড়ীতে পুলিশ হানা দিত। আমার বড় ভাই শহীদ লিয়াকত হোসেন কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের ভিপি ছিলেন, আমিও পরবর্তীতে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। ২০০৫ সালে গাজীপুরের গণমানুষের প্রিয় নেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার এমপি সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়ার পরপরই আমরা মিছিল-মিটিং ও প্রতিবাদ সমাবেশ করতে থাকি, যার কারণে আমরা তিন ভাই সহ ৫০জন নেতাকর্মী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে ৩৩দিন জেল-জুলুমের স্বীকার হই।

তিনি আরো বলেন, তৎকালীন সরকারের অত্যাচার, নির্যাতনের প্রতিবাদে আমরাই রাজপথে ২০/২৫জনে, আবার কোন কোন দিন তিন ভাই সহ ১০/১২জনে মিছিল, মিটিং ও হরতাল পালন করতাম। এমনকি যেদিন আমরা বের না হতাম সেদিন দেখা যেত কোন মিছিল মিটিং কিংবা হরতালই পালন হতো না। তারপর আমাকে পৌর ছাত্রলীগের উপদেষ্টা ও পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য করা হয়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ.এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ভাই সারাদেশ থেকে ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের বাছাই তালিকায় আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করেন। বিশেষ করে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ভাই আমাকে অকৃত্রিম ভালোবাসায় মোটিভেট করেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে গাজীপুর মহানগর সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত করেন। মূলত রাজপথে সক্রীয় ভূমিকা পালন করা ও উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের স্নেহাস্পদ ভালোবাসার কারণে গাজীপুর মহানগরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির পদে অলংকৃত হয়েছিলাম।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর সহ সকল বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ ছাত্রনেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়ে মাসুদ রানা এরশাদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই অমূল্য বাণীটি তোমাদের স্বরণ করিয়ে দিতে চাই, তাহলো ছাত্রদেরকে অবশ্যই বই, খাতা, কলম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ছাত্রলীগ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির বাস্তব রূপায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশের মানচিত্র