সংগৃহিত

বার্তাবিডি ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান গনমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিসি আসাদুজ্জামান গনমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গোপন বৈঠকে তারা মিলিত হয়েছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান তাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ ১০ জনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতিতে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জামায়াত জনগণের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জামায়াতের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠক থেকে সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতের সাতজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ ও মোবারক হোসাইন এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছে। সরকার দীর্ঘ এক যুগ ধরে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার কেঁড়ে নিয়েছে। কোনো দলকেই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছে না। সরকারের সবচাইতে জুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেককে গুম করা হয়েছে ও পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। শত জুলুম বুকে ধারণ করে জামায়াত নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের ১৮ মাসে জামায়াত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার অধিকার আছে। এটা দেশের জনগণের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এখতিয়ার কারো নেই। গায়ের জোরে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। অতীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জনগণের ন্যায় সংগত অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনকে দমন করা যায়নি। এখনো যাবে না ইনশাআল্লাহ। আমি সকল ষড়যন্ত্র ও জুলুম বন্ধ করে গ্রেফতারকৃত সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ গ্রেফতারকৃত ১০ জনকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

লেবার পার্টির নিন্দা
২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদসহ ১০ জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়েছে লেবার পার্টি।

সোমবার সন্ধ্যায় লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক আমানুল্লাহ মহব্বত স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার শান্তিপূর্ন কর্মসূচি থেকে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনা বিরোধীদল ও মতের শক্তিকে নির্মূলের অংশ মাত্র। দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও গণবিরোধী সরকার জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে বিএনপি-জামায়াতের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা ক্রমশঃ বাড়িয়ে দিয়েছে।

লেবার পার্টি অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যাপক আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন ও শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত-সহ ১০ নেতা-কর্মীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।

সূত্র: নয়া দিগন্ত