সর্বশেষ :

বিদেশি ছাগল পালনে তাক লাগিয়েছেন শ্রীপুরের ফরিদ, বছরে আয় ১৫ লাখ


আবুল কালাম আজাদ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১১, ২০২৬ । ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদেশি ছাগল পালনে তাক লাগিয়েছেন শ্রীপুরের ফরিদ, বছরে আয় ১৫ লাখ

ইউটিউবের একটি ভিডিও দেখে বদলে গেছে জীবনের গতিপথ। মাত্র ৬ লাখ টাকা পুঁজি আর অনলাইন থেকে কেনা আফ্রিকান বোয়ার জাতের একটি মাত্র ছাগল দিয়ে শুরু করেছিলেন যাত্রা। সাত বছরের মাথায় সেই উদ্যোগ রূপ নিয়েছে এক সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক খামারে। গাজীপুর ও সিলেটে গড়ে তোলা দুটি খামারে এখন রয়েছে ১২৫টি উন্নত জাতের বিদেশি ছাগল, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকারও বেশি। আর এই খামার থেকে বছরে তাঁর আয় হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

​সফল এই খামারির নাম শেখ ফরিদ। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন তাঁর স্বপ্নের ‘মা গোট ফার্ম’। পাশাপাশি সিলেটেও রয়েছে তাঁর আরেকটি খামার। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর এই উদ্যোগ এখন এলাকার অনেকের কাছেই এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

​যেভাবে শুরু ও খামারের সম্প্রসারণ

শেখ ফরিদ জানান, প্রায় সাত বছর আগে ইউটিউবে ছাগল পালন সংক্রান্ত একটি ভিডিও দেখে বিদেশি জাতের ছাগল পালনে আগ্রহী হন। এরপর প্রায় ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে একটি আফ্রিকান বোয়ার জাতের ছাগল কিনে খামারের সূচনা করেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আরও ছাগল সংগ্রহ করতে থাকেন।

​শুরুতে ছাগলের সংখ্যা কম থাকলেও তিন বছরের মাথায় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০টিতে। সেখান থেকে কিছু ছাগল বিক্রি করার পর পাঁচ বছর শেষে সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০টিতে। বংশবৃদ্ধি ও বিক্রির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে গাজীপুরের খামারে ৫০টি এবং সিলেটের খামারে ৭৫টি সহ মোট ১২৫টি ছাগল রয়েছে।

​ছাগলের জাত ও বাজারমূল্য

খামারে বর্তমানে মূলত কালাহারি, বোয়ার ও বারবারি জাতের ছাগল পালন করা হচ্ছে। জাত ও শারীরিক গঠনভেদে এসব ছাগল ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। শেখ ফরিদের মতে, সাধারণ জাতের তুলনায় এসব বিদেশি জাতের ছাগল পালন তুলনামূলক সহজ এবং এদের রোগবালাইয়ের প্রকোপও অনেক কম।

​খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা

ছাগলগুলোর পুষ্টি নিশ্চিত করতে নেপিয়ার ও জার্মান ঘাস, সাধারণ সাইলেজ এবং ভুট্টার সাইলেজ খাওয়ানো হয়। এর পাশাপাশি দানাদার খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয় ভুট্টা ভাঙা, সয়াবিন, আ্যংকর, ছোলা, বুটের ভুসি ও মসুরের ভুসি। রোগবালাই থেকে সুরক্ষায় নিয়মিত এফএমডি (খুরারোগ), গোট পক্স ও পিপিআর টিকা প্রদান করা হয়। এছাড়া রুটিন অনুযায়ী কৃমিনাশক, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও মিনারেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

​উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শেখ ফরিদ বলেন, “একটি মাত্র ছাগল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, আজ দুটি খামারে ১২৫টি ছাগল রয়েছে। ছাগল পালন এখন শুধু আমার ব্যবসাই নয়, এটি আমার ভালোবাসা ও স্বপ্নের জায়গা। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে এই খাত থেকে সম্মানজনক আয় করা সম্ভব।”

​পরিবেশবিদ সাঈদ চৌধুরী বলেন, “পরিশ্রম, উদ্যম ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ছাগল পালন করেও সফল ও স্বাবলম্বী হওয়া যায়—শেখ ফরিদ তার বাস্তব প্রমাণ।”

​শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলিম জানান, শেখ ফরিদ আফ্রিকান বোয়ারসহ বিদেশি জাতের ছাগল পালনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নিয়মিত তাঁর খামার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। খামার আরও সম্প্রসারণে সরকারি সকল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

​ছবি ক্যাপশন: শ্রীপুরের পূর্বপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় শেখ ফরিদের ‘মা গোট ফার্ম’।

বাংলাদেশের মানচিত্র

সর্বশেষ সংবাদ