বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সাথে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ
এইচএসসির ফল বিপর্যয় নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নের সাময়িক প্রভাব – প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা স্টার্টআপ ও ক্যারিয়ার নিয়ে সেমিনার
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করলো সরকার
আলিম ফলাফলে মাদ্রাসা বোর্ডে দেশসেরা টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে জেনেটিক কাউন্সেলিং সেবা
বাউবিতে প্রথমবার তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. নজীবুর রহমানের স্মরণে শোকসভা
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ
টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থী আহত, ফুটওভার ব্রিজ দাবি

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়াকে শিক্ষার মানোন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়ার সাময়িক প্রভাব হিসেবে দেখছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতি, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে আরও যত্নবান হলে আগামী পরীক্ষাগুলোতে ফলাফলের উন্নতি হবে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়াকে বিপর্যয় মনে করেন না জানিয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো, গাইড করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা প্রয়োজন ছিল, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হয়তো তা করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দোষারোপ না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করা দরকার।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষায় পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে। অনার্স পরীক্ষায়ও পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে। খাতা মূল্যায়নে গুরুত্ব, পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কারণে ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার মান বাড়াতে মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাকে শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ পরীক্ষা ও খাতা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব প্রক্রিয়া শেষে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে বসে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত ক্লাসের বাইরে, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিনা সম্মানীতেও অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে। আগামী এক থেকে দুই মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবে।
ভিসি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন বুঝতে পেরেছে ভালো ফল করতে হলে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে হবে। একইভাবে শিক্ষকদেরও পাঠদান ও খাতা মূল্যায়নে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সাময়িকভাবে পাসের হার কমলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, এইচএসসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে ফলাফলের উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন :